Google+ Badge

শুক্রবার, ৮ জুন, ২০১২

প্রাপ্তবয়স্কা মহিলাদের জন্য জানা একান্ত জরুরী

প্রাপ্তবয়স্কা নারীদের প্রত্যেক মাসেই কয়েক দিন করে স্বাভাবিকভাবে যে রক্তস্রাব হয় তাকে মাসিক বা হায়িয বলে। কত বছর বয়সে এই রক্তস্রাব আরম্ভ হবে হাদীসে তার কোন বিবরণ নেই। মেয়েদের যৌবনের সর্বপ্রথম যে কয় দিন রক্তস্রাব হয় সেই কয় দিনকেই হায়িযের সময়সীমা ধরে নিতে হবে।

আর যদি তার প্রথম যৌবনে যে কয়দিন হায়িয হয়েছিল পরের সময়গুলিতে তার পূর্ব দিনগুলো ছাড়িয়ে যায় তবে পূর্বের হিসাবের দিন বাদ দিয়ে অতিরিক্ত দিনগুলোতে গোসল করে সলাত আদায় করতে হবে। (তিরমিযী হাঃ ১২৩)

মেয়েদের প্রথম যৌবনে কতদিন স্রাব হয়েছিল তা যদি মনে না থাকে তবে তারা ৬ অথবা ৭ দিন হায়িয ধরে নিয়ে অবশিষ্ট দিনগুলিতে গোসল করে সলাত আদায় করবে। (মিশকাত হাঃ ৫১৬)

যে কয়দিন হায়িয থাকবে সে দিনগুলোর সলাত মাফ, কিন্তু হায়িয অবস্থায় রমাযানের সিয়াম (রোযা) না রেখে অন্য মাসে তা আদায় করতে হবে। (মুসলিম হাঃ ৬৬৯)

হায়িয (মাসিক) অবস্থায় যে সকল কাজ নিষিদ্ধঃ
১। কুরআন মাজীদ স্পর্শ ও তিলাওয়াত করা,
২। বিনা গিলাফে কুরআন মাজীদ স্পর্শ করা
৩। সলাত আদায় করা
৪। সিয়াম (রোযা) পালন করা
৫। সাজদায়ে শুকর করা
৬। সাজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করা
৭। সহবাস করা

××× তবে দু'আ পাঠ করা জায়িয

                                          (সিহাহ সিত্তাহ)

আল্লাহতা'আলা বলেন ঃ সুতরাং তোমরা রক্তস্রাবকালে স্ত্রী-সঙ্গম বর্জন করবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী সঙ্গম করবে না; সুরা বাক্কারাহ-২২২

হায়িয অবস্থায় হালাল জেনে সহবাস করা কুফরী কাজ। (মিশকাত হাঃ ৫০৬)

হায়িযের প্রথম অবস্থায় (যখন লাল রক্ত দেখা যায়) সহবাস করলে সাড়ে চার আনা ও শেষ অবস্থায় (যখন হলদে রক্ত দেখা যায়) সহবাস করলে সোয়া দুই আনা পরিমাণ স্বর্ণ অথবা ঐ পরিমাণ স্বর্ণের দাম কাফ্ফারা দিতে হবে। (তিরমিযী হাঃ ১৩২)

নিফাস
স্ত্রীলোকের সন্তান প্রসবের পর যে রক্তস্রাব হয় তাকে নিফাস বলে। নিফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ (চল্লিশ) দিন আর কমের কোন সীমা নেই।

যখনই রক্তস্রাব বন্ধ হবে গোসল করে সলাত আদায় এবং সিয়াম পালন করতে হবে। নিফাস বন্ধ হবার পরও ৪০ দিন পুরো করার উদ্দেশ্যে সলাত ও সিয়াম বাদ দিলে শক্ত গুনাহগার হতে হবে। (আইনী তুহফা সলাতে মুস্তফা ১ম খন্ড ৬০ পৃষ্ঠা)

হায়িযের অবস্থায় যা নিষিদ্ধ নিফাসের অবস্থাতেও সে সব নিষিদ্ধ।

ইসতিহাযা (প্রদর)
হায়িয ও নিফাসের সময় অতিক্রান্ত হবার পরও যে রক্তস্রাব হতে থাকে তাকেই আরাবী ভাষায় ইসতিহাযা বলে। বাংলা ভাষায় তাকে প্রদর রোগ বলা হয়।

মুস্তাহাযা (যার ইসতিহাযা "প্রদর" বা "দৃষ্টি রোগ" হয়েছে) স্ত্রীলোক পবিত্র স্ত্রীলোকের মত।

হায়িযের ক্ষেত্রে যৌবনের প্রথম হায়িযকাল, কিংবা তা মনে না থাকলে ৬/৭ দিন এবং নিফাসের ক্ষেত্রে চল্লিশ দিনের পর শরীরের অঙ্গ বিশেষ হতে রক্ত ধুয়ে ফেলে গোসল করে সলাত ইত্যাদি সমাধা করবে। (তিরমিযী হাঃ ১২৩)

যার ইসতিহাযা হয়েছে সে এক গোসলে যুহর ও আসর একত্রে, মাগরিব ও ইশা একত্রে আর এক গোসলে ফাজরের সলাত আদায় করবে এবং সে অবস্থায় সিয়ামও (রোযা) রাখতে পারবে। (মিশকাত হাঃ ৫১৬)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন